| বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা বিভাগ ও বিমানবন্দর চালু হবে: জামায়াত আমিরের বড় ঘোষণা | ২০২৬ নির্বাচন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 30-01-2026 ইং
  • 2300985 বার পঠিত
কুমিল্লা বিভাগ ও বিমানবন্দর চালু হবে: জামায়াত আমিরের বড় ঘোষণা | ২০২৬ নির্বাচন
ছবির ক্যাপশন: জামায়াত আমিরের বড় ঘোষণা

কুমিল্লা' নামেই হবে বিভাগ: লাকসামে ঐতিহাসিক ঘোষণা জামায়াত আমিরের

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

কুমিল্লা: দীর্ঘ এক শতাব্দীর প্রশাসনিক বিবর্তন এবং গণমানুষের আবেগের প্রতিফলন ঘটিয়ে এবার ‘কুমিল্লা’ নামেই বিভাগ বাস্তবায়নের জোরালো অঙ্গীকার করলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত কুমিল্লার মানুষ তাদের স্বতন্ত্র পরিচয়ের যে দাবি জানিয়ে আসছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে তা নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে।

কুমিল্লা বিভাগ ও বিমানবন্দর সচল করার প্রতিশ্রুতি শুক্রবার রাতে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ১১-দলীয় জোটের এক বিশাল নির্বাচনি সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে। এটি এখন আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। আমরা সরকার গঠন করি বা অন্য কেউ করুক—এই দাবি মানতে বাধ্য করব।” তিনি আরও যোগ করেন, কুমিল্লার ইপিজেডকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পাশাপাশি বন্ধ থাকা কুমিল্লা বিমানবন্দর পুনরায় সচল করা হবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬ ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে যখন বৃহত্তর বাংলা ভাগ ও প্রশাসনিক পুনর্গঠন নিয়ে বিতর্ক চলছিল, তখনও কুমিল্লা (তৎকালীন ত্রিপুরা জেলা) ছিল শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। পাকিস্তান আমল পেরিয়ে ১৯৭৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সরকার প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের কথা বললেও কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন নিয়ে চলেছে নানা টালবাহানা। কখনো ‘ময়নামতি’ বা অন্য নামে বিভাগ করার প্রস্তাব দিয়ে কুমিল্লার গণদাবিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে জামায়াত আমিরের এই ঘোষণা মূলত সেই দীর্ঘদিনের বঞ্চনা অবসরের একটি রোডম্যাপ।

প্রতিশোধহীন নতুন রাজনীতির অঙ্গীকার রাজনীতির প্রচলিত ধারা ‘যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ’—এই প্রবাদ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিকে হারাম মনে করি। গত ১৫ বছরে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের বিচারিক হত্যা, অফিস সিলগালা এবং নিবন্ধন কেড়ে নেওয়ার মতো যে জুলুম হয়েছে, আমরা তার প্রতিশোধ নেব না। কেউ অপরাধ করলে আইন তার বিচার করবে, আমরা আইন হাতে তুলে নেব না।”

মিডিয়া ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান সমাবেশে প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি কোনো দলের আনুকূল্য না করে দেশ ও মানুষের পক্ষে থাকার আহ্বান জানান। গণমাধ্যমকে ‘জাতির আয়না’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সংবাদকর্মীদের উচিত অন্যায়ের বিপরীতে ন্যায়ের পথে থাকা। এছাড়াও তিনি ঘোষণা দেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে সরকারি খরচে মেয়েরা মাস্টার্স পর্যন্ত লেখাপড়া করার সুযোগ পাবে।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ারসহ ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান শেষে ডা. শফিকুর রহমান কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে জোটের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনি প্রতীক তুলে দেন।


বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি কুমিল্লার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও আবেগীয় দাবিকে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ফুটিয়ে তুলেছে। ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা আঞ্চলিক বঞ্চনার ইতিহাস এবং ২০২৬-এর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মেলবন্ধন এই কন্টেন্টটিকে পাঠকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলবে।

সূত্র: সমসাময়িক নির্বাচনী সমাবেশ (৩০ জানুয়ারি ২০২৬), কুমিল্লা জেলা গেজেটিয়ার এবং ঐতিহাসিক রাজনৈতিক আর্কাইভ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency